যমুনার চরে ভুট্টার বাম্পার ফলনে অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে চান কৃষক
ভুট্টার বাম্পার ফলনে উচ্ছ্বসিত নদীবেষ্টিত টাঙ্গাইলের চরাঞ্চলের কৃষক। নিজেরা লাভবান ও স্বাবলম্বী হবার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা।
যমুনা নদীতে জেগে ওঠা চরাঞ্চল হওয়ায় জেলার ১২টি উপজেলায়ই কম-বেশি ভুট্টার চাষ হয়। পরিশ্রম ও খরচ কম এবং বেশি লাভজনক হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে আগাম হাইব্রিড জাতের ভুট্টাচাষে ঝুঁকেছেন অধিকাংশ প্রান্তিক চাষি। ফলে রবিশস্যটির আবাদও দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ভুট্টাচাষিরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর বিস্তীর্ণ চরের বুকে রবি ফসলের পাশাপাশি ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। তাদের মতে, অন্য ফসলের চেয়ে এর আবাদে তুলনামূলক খরচ কম এবং উৎপাদন বেশি। লাভজনক হওয়ায় তাই ভুট্টাচাষেই বেশি মনোযোগী তারা।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি রবি মৌসুমে ১২টি উপজেলার ৩ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে ভূট্টার চাষ করেছেন কৃষক। ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে ক্ষেত নষ্ট না হলে ৪০ হাজার ৪৫৫ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদনে আশাবাদী কৃষি কর্মকর্তারা।
সরেজমিন ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ও অর্জুনা-ফলদা ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চরাঞ্চলজুড়ে শোভা ছড়াচ্ছে ভুট্টাক্ষেত। ভালো ফলনের আশায় অধীর আগ্রহে চাষাবাদে ব্যস্ত কৃষক। চাষিরা জানান, এই চরের মাটি ভুট্টা, গম ও পায়রা চাষের উপযুক্ত। এর মধ্যে ভুট্টার চাষই বেশি ভালো হয়।
গাবসারা ইউনিয়নের চর গাবসারার ভুট্টাচাষি আরমান শেখ, রহিম তালুকদার ও রইচ মিঞা বলেন, ‘প্রতি বছর বন্যায় চরের সবজিক্ষেতসহ সব ফসলই নষ্ট হয়ে যায়। তবে, বর্ষা শেষে পর্যাপ্ত পলি-দোআঁশ মাটি জমে চরের জমিকে উর্বর করে দিয়ে যায়। তাই রবি ফসলের পাশাপাশি ভুট্টার আবাদ করে থাকি আমরা। অন্য বছরের তুলনায় চলতি বছর ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, দামও ভালো পাব।’
রামপুরা চরের চান্দু শেখ ও চর বলরামপুরের গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘এবারও বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পলি জমে জমি উর্বর হয়েছে। ফলে বাম্পার ফলন পেয়েছি।’ গত বছর ৯০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা মণ দরে ভুট্টা বিক্রি হয়েছে। এ বছর আরও ভালো দাম পেতেও আশাবাদী কৃষক।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘চলতি বছর ১৮ বিঘা জমিতে নিজে ভুট্টা চাষ করেছি এবং বর্গা দিয়েছি আট বিঘা, সেই জমিতেও ভুট্টার চাষ হয়েছে। বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ মণ ফলন এবং খরচ বাদ দিয়ে চার লাখ টাকার বেশি লাভের আশা করছি।’
ভুঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মোখলেছুর রহমান জানান, উপজেলার ১ হাজার হতদরিদ্র কৃষককে সরকারিভাবে বিঘাপ্রতি এক কেজি ভুট্টার বীজ এবং ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমপি সার বিনামূল্যে সহায়তা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যমুনার চরে সাধারণ ধানি জমিতেও ভুট্টার চাষ হয়েছে। নিজের ভাগ্যের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর স্বপ্নও দেখছেন কৃষক।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে