ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সংস্কার
সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে থাকা জরুরি
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংস্কার কমিশন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশ সংবিধান সংস্কার কমিশনও করেছে। অবশ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অতি সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়ে অটোমেটিকেলি ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত করা হয়, সেই ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগ যে আদেশ দিয়েছিল, তার ওপর একটি রিভিউ পিটিশন আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় থাকায় তার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু করা যাবে না। বাহাত্তরের সংবিধানে গণভোটের বিধান ছিল না, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে তা সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৯১ সালে তা আবার সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করা হয়। হাইকোর্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধানের পুনরুজ্জীবন হলো।
দলনিরপেক্ষ লোক দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন শুরু হয়েছে ১৯৯০ সাল থেকেই; কিন্তু ১৯৯০ সালের বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল না, ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার সরকার ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় এই ব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অভিধায় সুপ্রিম কোর্ট ২০১১ সালে অবৈধ ঘোষণা করে। আওয়ামী লীগ সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায়কে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
পাকিস্তান আর বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দরকার হয় না। এই দুটি দেশে যে কোনো পন্থায় ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় বলেই ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের গণআন্দোলনে পতন হয়েছে, গণআন্দোলনে পতন হয়েছে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা সরকারের। এদের সবাই গণআন্দোলনে ‘স্বৈরশাসক’ অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশে একদল আরেক দলকে বিশ্বাস করে না, বিশ্বাস করে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের। নির্বাচন পরিচালনায় অনির্বাচিত উপদেষ্টাগণের বিশ্বস্ততা ও দক্ষতা মেনে নেয়ার মধ্যে যে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের অক্ষমতার লজ্জা লুকিয়ে আছে তাও তারা বোঝে না। বিএনপির তরফ থেকে নির্বাচিত সরকারের অধীনে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি তোলায় অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা তাই বোধ হয় জানতে চেয়েছেন, ‘৫৩ বছর কেন করেননি?’
বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগ সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ করেছিল, ক্ষমতায় বসলো বিএনপি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য ‘স্বৈরাচার’ এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলাম একযোগে আন্দোলন করেছে; অথচ ক্ষমতায় বসে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে অস্বীকার করল। খালেদা জিয়ার নতুন তত্ত্ব,- পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়।’ স্বৈরাচার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শুরু হয় গণআন্দোলন, এই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সঙ্গে শরিক হয় ‘স্বৈরাচার’ ও ‘ফ্যাসিস্ট’ এরশাদের জাতীয় পার্টিও। কি লজ্জা! যে স্বৈরশাসক এরশাদকে তাড়ানোর জন্য বিএনপি আন্দোলন করল, সেই এরশাদ বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গণআন্দোলন করেছেন।
গণআন্দোলনের মুখে খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে পদত্যাগ করলে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় পায় এবং বিএনপি যথারীতি কারচুপির অভিযোগ তোলে। বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির জয়ে আওয়ামী লীগ স্থুল কারচুপির অভিযোগ আনে। সেনাবাহিনী সমর্থিত ড. ফখরুদ্দিন আহমদের অধীনে ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনও বিএনপির নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। তারপরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই।
যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য বিএনপির ১৫ বছরের সংগ্রাম সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইমেজ নষ্ট করেছে বিএনপি। নিজেদের পছন্দের প্রধান বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে পাওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা বাড়িয়ে দেয়। তীব্র আন্দোলনের মুখে পছন্দের বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করতে না পেরে বিএনপি তাদের দলীয় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে প্রধান উপদেষ্টা বানিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গুরুত্ব ‘জিরো’ করে দেয়। শুধু তাই নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ছিল না বলেই প্রতিবারই সংসদ ছিল বিরোধী দল শূন্য। সংসদে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দল হয়েছে স্বেচ্ছাচারী ও ফ্যাসিস্ট। তাই নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সর্বজন স্বীকৃত ব্যবস্থা নয়।
নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন নতুন যে প্রস্তাব করেছে তা তাৎপর্যপূর্ণ; কোনো নির্বাচনী আসনে ৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে সেই আসনে পুনরায় নির্বাচন আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে। কোন বিবেচনায় ৪০ শতাংশের সুপারিশ করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিবেচনায় কমপক্ষে ৫১ শতাংশ ভোট না পড়লে তা বাতিলের ব্যবস্থা থাকা উচিত। সংস্কার কমিশন উচ্চকক্ষের ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় কমিটির নিকট নির্বাচন কমিশনকে দায়বদ্ধ রাখার সুপারিশ করেছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই জবাবদিহি থাকা দরকার; কিন্তু এই দায়বদ্ধতা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হবে কিনা তাও বিচার্য। আরও একটি ভালো প্রস্তাব হচ্ছে রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তির ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক সংগঠন এবং বিদেশি শাখা বিলুপ্ত করা; কিন্তু আইনজীবী, চিকিৎসক বা সাংবাদিকদের সংগঠন কেন বাদ দেয়ার সুপারিশ হলো না তা বোধগম্য নয়। নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করা হলে প্রার্থিতা বাতিলের যে সুপারিশ করা হয়েছে তা যথার্থ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভয় দেখিয়ে মিডিয়াসহ ব্যক্তির বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে কমিশনের রিপোর্টে। পত্রিকায় দেখলাম, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৪ এর প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থীর হলফনামায় মিথ্যা বয়ান বা তথ্য থাকলে প্রার্থিতা বা সাংসদের সদস্য পদ বাতিল করা গেলে মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য পরিবেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ডিজিটাল আইনে শাস্তি হবে না কেন? সব সরকারেরই নিপীড়নমূলক আইনের প্রয়োজন হয়, তাই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন কোনো সরকারই বাতিল করেনি।
রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে সংস্কারের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তাও অপরিহার্য। সব দলই স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে; কিন্তু কোনো দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা নেই, দলের শীর্ষ নেতার কথায় দলের অন্য সবাই উঠবস করে। প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকার প্রাথমিক সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত তিনজনের প্যানেল থেকে দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে- সংস্কার কমিশনের এই সুপারিশও যথার্থ।
একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতগুলো আসনে মনোনয়ন প্রদানে আওয়ামী লীগ এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল, পরে বাদ দিয়েছে। কারণ তৃণমূল পর্যায়েও টাকার খেলা চলে। নির্বাচনে ‘টাকার খেল’ বন্ধ করার নিমিত্তে শুধু ব্যানার, পোস্টার, তোরণ ও বিলবোর্ড বন্ধের সুপারিশ করেছে কমিশন, অন্যান্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনৈতিকতার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে; কিন্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনৈতিকতা থাকলে মনোনয়ন বাণিজ্যের হাট বসতো না, বিভিন্ন স্তরে কমিটি গঠনে টাকার লেনদেন থাকত না, বা ব্যবসায়ী ও ধনীরা একচেটিয়া মনোনয়ন পেত না। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে নির্বাচনী ব্যয় ব্যাংকিং সিস্টেমের আওতাভুক্ত করার নির্দেশনার বাস্তবায়ন শুধু অসম্ভব নয়, অবাস্তবও। মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী ব্যয়ের মনিটরিং ও নজরদারির সুপারিশের বাস্তবায়ন হলে দুর্নীতির আরেকটি নতুন দুয়ার খুলবে।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একতরফা ও পাতানো নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, আইসিটি আইনে সাজাপ্রাপ্তদের কোনো দলের সদস্য না করা, গুম-খুনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িতদের নির্বাচনের বাইরে রাখার বিধান প্রণয়নের সুপারিশও করেছে কমিশন। উত্তম প্রস্তাব; কিন্তু নিরপেক্ষ প্রস্তাব নয়। শুধু কি এই তিনটি নির্বাচনই একতরফা ও পাতানো ছিল? জিয়াউর রহমানের ‘হাঁ-না’ ভোট, এরশাদ সাহেবের প্রতিটি নির্বাচন, বিএনপির মাগুরার উপনির্বাচন, খালেদা জিয়ার ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনও একতরফা ও পাতানো ছিল। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং গায়েবি মামলার জন্যও সংস্কার কমিশন শুধু আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে; কিন্তু ২০০৪ সালে বিএনপি আমলে র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে গায়েবি মামলা তো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও হচ্ছে। তাই একতরফা ও পাতানো সব নির্বাচনকেই বিবেচনায় নেয়া সমীচীন। অপহরণ ও গুম একটি জঘন্য অপরাধ, এই অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যত নৃশংস হোক না কেন, বিএনপির আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু না হলে দেশে এতদিনে সন্ত্রাসীদের রাজত্ব কায়েম হয়ে যেত।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিগত ১৫ বছরে দলীয়করণের চিত্র সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে; কিন্তু মাত্রা কমবেশি হলেও দলীয়করণ ১৫ বছরের আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। এখন তো ঊর্ধ্বতন পদগুলো নিয়ে বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে অঘোষিত তীব্র প্রতিযোগিতা হচ্ছে। দলীয়করণ হয়েছে বলেই প্রতিটি সরকারের আমলে শত শত আমলাকে ওএসডি করা হয়েছে। তাই শফিক রেহমান তার সাপ্তাহিক ‘যায়যায়দিন’ ম্যাগাজিনে আমেরিকার মতো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দলীয় পরিচয়ে নিয়োগের সুপারিশ করেছিলেন। যে প্রধান বিচারপতিকে চাপ সৃষ্টি করে পদত্যাগে বাধ্য করতে সংস্কার কমিশনের রিপোর্টে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়েছে সেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন, তিনি বাতিলের পক্ষে না থাকলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হতো না।
সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী বিচারিক আদালত বা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার দিন থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন; কিন্তু এই সুপারিশ যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ নিম্ন আদালতের রায় চূড়ান্ত নয়, চূড়ান্ত নয় বলেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফাঁসির আসামিও মুক্তি পাচ্ছে। নির্বাচনের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠতার একাধিপত্য ও দুঃশাসন রোধ করার যে বাসনা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন তার সফলতার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত সংস্কার কমিশনের রিপোর্টগুলোতে নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বড় ইচ্ছা, আওয়ামী লীগ ব্যতীত সব দলের অংশগ্রহণে সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হোক; কিন্তু হবে না। কারণ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সংস্কার কর্মসূচি রয়েছে, ক্ষমতায় যারা যাবে তারা তাদের সংস্কারে তাদের আদর্শের প্রতিফলন ঘটাবে এবং এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, সংস্কার কমিশনের কোনো প্রস্তাব সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায় হলে সেই প্রস্তাবে বাধা দেয়া হবে। অন্যদিকে বিএনপি, জামায়াত ও অন্তর্বর্তী সরকারের ঐকমত্য শুধু আওয়ামী লীগকে ধ্বংস ও বিচার করার ক্ষেত্রে, অন্য ইস্যুগুলোতে তাদের বিপরীতমুখী অবস্থান সরকারের সংস্কার কর্মসূচিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিতে পারে।
জিয়াউদ্দীন আহমেদ: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে