Views Bangladesh Logo

ইউক্রেন যুদ্ধের ৩ বছর: যুদ্ধ থামবে না কি অন্যদিকে মোড় নেবে?

Kamrul  Ahsan

কামরুল আহসান

জ সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫; রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ৩ বছর পূর্ণ হলো। যদিও এ যুদ্ধকে শুধু ইউক্রেন যুদ্ধই বলা হয়; কারণ, যুদ্ধ পুরোটাই হচ্ছে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল। ভ্লাদিমির পুতিন আশা করেছিলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রাশিয়া ইউক্রেন দখল করে নিতে পারবে। তখনই অনেকে বলাবলি করছিলেন এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিবে। সত্যিই তাই হলো, সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর এই প্রথম রাশিয়া এমন দীর্ঘমেয়াদি এক যুদ্ধে জড়াল। ইউক্রেন দাবি করছে, এই যুদ্ধে রাশিয়া এখন পর্যন্ত ৪ লাখ সৈন্য হারিয়েছে। সঠিক সংখ্যাটা অবশ্য জানা যাচ্ছে না। তাও বিবিসি ও আল জাজিরা নানা সূত্রের বরাত দিয়ে জানাচ্ছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত রাশিয়া কমপক্ষে দেড় লাখ সৈন্য হারিয়েছে। ইউক্রেনের সৈন্য নিহত হয়েছে অর্ধ লাখের মতো। সৈন্য কম নিহত হলেও ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রচুর। তাদের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দেশছাড়া হয়েছে, ৫০ লাখ আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আর ইউক্রেনের ৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখল করেছে রাশিয়া। দুদেশের অন্যান্য অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত ক্ষতির কথা বাদ দিলেও বলা যায় এই যুদ্ধে বিশ্ববাসীও ভুক্তভোগী হয়েছে প্রচুর। বিশেষ করে এশীয় ও ইউরোপের অনেক অঞ্চলে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে অনেক। করোনা মহামারির পর এমন একটা ভয়াবহ যুদ্ধ কারও কাছেই প্রত্যাশা ছিল না। কোনো যুদ্ধই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশায় থাকে না।

তারপরও দেশে দেশে যুদ্ধ হয়। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের যুদ্ধের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া যুদ্ধও মধ্যপ্রাচ্যকে ভুগিয়েছে অনেক বছর। সিরিয়া যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি আমাদের তেমন স্পর্শ করেনি; কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের জের আমাদেরও দিতে হয়েছে কম-বেশি; অন্তত দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত বা বস্তুত পুতিন ও জেলনস্কির মধ্যে নয়; অনেকটাই রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে। ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার দ্বন্দ্ব ঐতিহাসিক হলেও সাম্প্রতিক অচলাবস্থা সৃষ্টির পেছনে রয়েছে ইউরোপীয় নিরাপত্তা জোট ‘ন্যাটো’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৯ সালে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এ জোট গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের (ইউএসএসআর) আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ইউক্রেন এক সময় সোভিয়েত রাশিয়ার অংশ ছিল; কিন্তু ১৯৯১ সালে দেশটি স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং এক গণভোটে সেই স্বাধীনতার প্রতি ইউক্রেনের জনগণ সমর্থনও দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের কারণ হিসেবে এটিকে একটি বড় ভূমিকা বলে মনে করা হয়। মোটামুটি তারপর থেকেই সোভিয়েত-পরবর্তী রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ঝামেলা চলতে থাকে। এর মধ্যে ইউক্রেনেরও অনেক আভ্যন্তরীণ সমস্যা ছিল। ইউক্রেনের অনেক সরকার রাশিয়ামুখী হতে চেয়েছে, কেউ হতে চেয়েছে ইউরোপমুখী। রাশিয়াও সময়-সুযোগ বসে ইউক্রেনের আভ্যন্তরীণ সমস্যায় নাক গলিয়েছে। ইউক্রেনের অনেক নাগরিক এখনো রাশিয়াপন্থি বা রাশান সংস্কৃতির সঙ্গেই নিজেদের মিল খুঁজে পায়। রাশিয়াও এটা কাজে লাগাতে চেয়েছে সবসময়।

ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের শুরু ইউক্রেনের ন্যাটোর সমস্যা হওয়া নিয়ে। ইউক্রেন চায় ন্যাটোর সদস্য হতে; কিন্তু রাশিয়া তা দিবে না; কারণ, তাতে করে ন্যাটোকে রাশিয়ার সীমান্তে টেনে আনা হয়; এবং এটা রাশিয়ার জন্য বিরাট হুমকির কারণ হয়। স্বার্থান্বেষী মহল ছাড়া বিশ্বের অন্যসব নিরপেক্ষ দেশ-মানুষ-দলের কাছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিরাট এক প্যারাডক্স। নিরপেক্ষরা যে এখন কোন পক্ষে যাবে সেটাই বুঝতে পারছে না। একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্যপদ দাবি করতেই পারে, আবার নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়াও তা প্রতিহত করতে পারে। এখন রাশিয়া-ইউক্রেনের দুপক্ষের স্বার্থে-যুক্তিতে এই যুদ্ধ হয়তো অনিবার্য ছিল; কিন্তু তাতে এই পৃথিবীর কী লাভ-ক্ষতি হলো? বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় ছাড়া, অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ছাড়া কোনো যুদ্ধে আর কী লাভ হয়! কোনো যুদ্ধকে হয়তো কেবল নৈতিকতার মাপকাঠিতে বিচার করা যাবে না। যুদ্ধ মানবসভ্যতার এক ভয়াবহ অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিণামের নাম। বহু মনীষী-দার্শনিক-রাষ্ট্রনায়ক বহু পদক্ষেপ নিয়েও যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেননি। হয়তো কেয়ামত পর্যন্ত মানুষে মানুষে হানাহানি-রক্তপাত-যুদ্ধ দেখে যেতে হবে এটাই মানুষের নিয়তি। কিংবা হয়তো যুদ্ধের কারণেই একদিন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।

যাই হোক, দার্শনিকবচন বন্ধ করে আমরা এবার একটু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান বাস্তব অবস্থার দিকে তাকাই। আমরা দেখছি এই যুদ্ধের তিন বছরের মাথায় হঠাৎ রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন, তিনি যদি এবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন তাহলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন। তিনি এমনো কথা বলেছেন যে তিনিই একমাত্র এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায়ই ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য নানা কথা বলছেন। ‘নানা কথা বলছেন’, না বলে আমরা বলতে পারতাম, বলতে পারলে খুশি হতাশ যে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন’। ‘নানা কথা বলছেন ‘কথাটা একটু হেয় করেই বলা এই অর্থে যে, তিনি একেক সময় একেক কথা বলছেন। একবার তিনি বলছেন, এই যুদ্ধের জন্য জেলেনস্কিই দায়ী, ইউক্রেনের এ যুদ্ধ শুরু করা ঠিক হয়নি। গত শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আবার বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাশিয়াই আগে আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের আক্রমণ করতে দেয়া উচিত হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আক্রমণ এড়াতে পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল। এরপরই ট্রাম্প প্রস্তাব করেন, যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটন কিয়েভকে যে সামরিক সহায়তা দিয়েছে তার বিনিময়ে এখন ইউক্রেনের কাছ থেকে ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের খনিজ সম্পদের মালিকানা চায়। শিগগিরই এ নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটা চুক্তি হতে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

ট্রাম্পের এ প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত যে সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে, ট্রাম্প যে পরিমাণ অর্থ ফেরত চাইছেন তার থেকে অনেক কম। এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট করে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। ইউক্রেনের লিথিয়াম, টাইটানিয়ামসহ বিরল খনিজ সম্পদের মালিকানা পেতে চায়। এই প্রস্তাব-সংশ্লিষ্ট এক প্রশ্নের জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমি ইউক্রেনকে রক্ষা করছি। আমি আমাদের দেশকে বিক্রি করে দিতে পারি না।’

জেলেনস্কি প্রস্তাব বাতিল করার পর ট্রাম্প তাকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে গালি দিয়েছেন। জেলেনস্কিকে ট্রাম্পের স্বৈরশাসক বলার কারণ ইউক্রেনে জেলেনস্কি সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হয়েছে। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর দেশটিতে সামরিক আইন জারি করা হয়। তখন থেকে সেখানে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। এদিকে ট্রাম্প জেলেনস্কিকে স্বৈরশাসক আখ্যা দেয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউরোপের নেতারা। জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এবং তার গণতান্ত্রিক বৈধতাকে অস্বীকার করা একেবারে ভুল ও ভয়ংকর।’

ট্রাম্পের এসব অন্যায্য দাবি ও উল্টাপাল্টা কথার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের একপক্ষীয় আলাপ-আলোচনার পর জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেন, ‘বেঁধে দেয়া কোনো শান্তি (শান্তি উদ্যোগ) কখনোই আমাদের সমর্থন পাবে না।’ প্যারিসে ইউরোপের নেতাদের নিয়ে এক বৈঠক আয়োজনের পরদিন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘ইউক্রেনে আমরা জোরালো ও টেকসই শান্তি চাই। এটি অর্জনে রাশিয়াকে অবশ্যই হামলা বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইউক্রেনবাসীর জন্য শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও অবশ্যই থাকতে হবে।’

অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৈঠকে দুই পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে যে দেশে যুদ্ধ চলছে, সেই ইউক্রেন বা তার মিত্র ইউরোপের দেশগুলোর কাউকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ঠিক একই সময়ে তুরস্ক সফরে গেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমাদের পেছনে রেখে ওয়াশিংটন ও মস্কো যেন চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করতে না পারে, কিয়েভ তা নিশ্চিত করতে চায়।’ টিমোথি অ্যাশ চাথাম হাউসের রাশিয়া ও ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের একজন সহযোগী ফেলো। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ইউরোপের নেতারা এ জন্য উদ্বিগ্ন যে, ইউক্রেন বা ইউরোপ- কাউকেই রিয়াদ বৈঠকে ডাকা হয়নি। তাদের ধারণা, ইউক্রেনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন ট্রাম্প। গাজা নিয়ে ট্রাম্পের বার্তায়ও একই রকম ফলাফল আসার আশঙ্কা তাদের। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ট্রাম্প ফিলিস্তিনের গাজা নিয়ে তার এক পরিকল্পনায় বলেন, এ উপত্যকার বাসিন্দাদের অন্য দেশে চলে যেতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসৈকতে রূপ দেবে।

অবস্থাদৃষ্টে, নানা বিচার-বিশ্লেষণ থেকে মনে হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি আসলে ভালোই জটিলতায় মোড় নিয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট সম্প্রতি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ক্ষমতার ওপর আত্মবিশ্বাসী। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। তিন বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধ এই সপ্তাহেই শেষ হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন; কিন্তু আজকেই (২৪ ফেব্রুয়ারি) সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানাল হলো, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত এবং এই যুদ্ধ চার বছরে প্রবেশ করায় সমগ্র ইউরোপই চরম অনিরাপত্তার মধ্যে পড়েছে।
সবশেষে, এ কথা বলা যায়, এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়া থেকে ইস্তফা দিতে হবে। সেটা কি ইউক্রেন করবে? তার আগ পর্যন্ত রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করবে এমন কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে রয়টার্স খবর প্রকাশ করেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য নতুন সেনাসদস্য খুঁজছে রুশ সেনাবাহিনী। রাশিয়ার সব জায়গায় তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির পোস্টার চোখে পড়ছে। শুরু থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘যুদ্ধ’ না বলে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলে আসছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার অনেক মানুষের কাছে এ যুদ্ধ এমন একটি ঘটনা, যা তারা শুধু টেলিভিশনের পর্দাতেই দেখেছেন। বিবিসির প্রতিনিধির সঙ্গে রাস্তায় আলাপচারিতাকালে রাশিয়ার এক নাগরিক মন্তব্য করেন, ‘আমি এমন অনেক লোককে চিনি, যারা যুদ্ধে গেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আর বাড়ি ফেরেননি। আমি চাই (এ যুদ্ধ) যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ হোক।’

আমরাও চাই এ যুদ্ধ বন্ধ হোক। পৃথিবীতে আর কোনো যুদ্ধ না হোক; কিন্তু সাধারণ মানুষের এই আর্তনাদ কি কোনোদিন পৌঁছুবে পৃথিবীর ক্ষমতাসীন, পরাক্রমশালী রাষ্ট্রনায়কদের কানে? পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হবে আর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের সংবেদনশীল মানুষরা দুঃখ-ব্যথায় জর্জড়িত হয়ে কাতরাবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কি সত্যিই থামবে না কি অন্যদিকে মোড় নেবে তাই এখন শংকার বিষয়। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, আজ হোক কাল হোক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হয়তো থামবে; কিন্তু, তারপর কোথায় নতুন করে যুদ্ধ হবে তাই এখন দেখার বিষয়। এই আশঙ্কাকে একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ, একটি দিনও কি গেছে পৃথিবীতে যুদ্ধ ছাড়া?

তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা, সিএনএন, রয়টার্স ও ইউকিপিডিয়া

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ