ইসরায়েলি হেফাজতে ৫৯ ফিলিস্তিনি বন্দীর মৃত্যু
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় গণহত্যা শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হেফাজতে মৃত ফিলিস্তিনি বন্দীর সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে অন্তত ৩৮ জন গাজার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানিয়েছে নিউজ এজেন্সি আনাদোলু। এর ফলে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত শহীদ হওয়া ব্যক্তির মোট সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৬ জনে।
জানা গেছে, ১৯৬৭ সালের পর এটি হেফাজতে থাকা বন্দীদের মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা।
গত সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুটি ফিলিস্তিনি বন্দী অধিকার সংগঠন গাজার একজন বন্দী মুসাব হানি হানিয়ের মৃত্যুর ঘোষণা দেয়। গত ৫ জানুয়ারি ইসরায়েলি কারাগারে মারা যান তিনি।
এ বিষয়ে বন্দী বিষয়ক কমিশন এবং ফিলিস্তিনি বন্দী সমাজ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে তারা হানিয়ের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ শুধু বন্দীদের হত্যাই করেনি বরং তাদের ভাগ্যে কি আছে তা নিয়েও কারসাজি করছে, যা বারবার ঘটেছে।
সংগঠনগুলো জোর দিয়ে বলেছে, বন্দীদের মৃত্যু সম্পর্কে একমাত্র আনুষ্ঠানিক তথ্য ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী থেকে আসে এবং প্রায়ই মৃতদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয় না। যার ফলে তাদের মৃত্যুর অন্য কোনো প্রমাণ থাকে না।
হানিয়ে (৩৫) গাজার খান ইউনিসের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২৪ সালের ৩ মার্চ থেকে ইসরায়েলি কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছিল। তার পরিবারের মতে, গ্রেপ্তারের আগে হানিয়ের কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল না।
বিবৃতিতে হানিয়ের মৃত্যুর ঘটনাকে একটি নতুন অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা শুরুর পর থেকে এটি আরও বৃদ্ধি পায়।
সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, বন্দীদের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে এবং এখনও ইসরায়েলি কারাগারে হাজার হাজার বন্দীদের ওপর কঠোর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। এমতাস্থায় বন্দিরা নির্যাতন, অনাহার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার মতো অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে।
বিবৃতিতে হানিয়ের মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করা হয়েছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য ইসরায়েলি নেতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দী সমাজের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী এখনও ইসরাইলি হেফাজতে রয়েছেন, যার মধ্যে গাজার শত শত বন্দী জোরপূর্বক গুমের শিকার হন। তাদের হিসাব এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী গত ১৯ জানুয়ারি গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি কার্যকর হয়। এতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে চালানো গণহত্যামূলক যুদ্ধ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।
টানা ১৫ মাসের এই যুদ্ধে প্রায় ৪৮ হাজার ৩৫০ জন নিহত হন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু রয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পর গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।
এ ছাড়াও গাজায় 'গণহত্যার অপরাধে' ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিসিতে মামলা দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে