Views Bangladesh Logo

মানবাধিকার কমিশনকে দ্রুত সক্রিয় করুন

দেশে যখন একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে তখনই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ৪ মাস ধরে নিষ্ক্রিয়। এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ভুক্তভোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। গতকাল ১৮ মার্চ (মঙ্গলবার) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই সরকারের সময়ে গঠিত কমিশন টিকে ছিল নভেম্বর মাস পর্যন্ত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে আগের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পদত্যাগ করলেও নতুন করে কমিশন গঠন করা হয়নি। চার মাস চলে গেলেও নতুন কমিশন গঠিত না হওয়া হতাশাজনক। এতে মনে হতে পারে অন্তর্বর্তী সরকার মানবাধিকার কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না।

মানুষের জন্মগত অধিকার মানবাধিকার। মানবাধিকার না থাকলে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হয় না। জন্মগতভাবেই মানুষ এই অধিকার প্রাপ্য। মানুষের অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো পরিবারে-সমাজে-রাষ্ট্রে একজন মানুষ সব ধরনের ভয় ও অভাব থেকে মুক্ত থাকবে। ব্যক্তির অধিকারে কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠী, এমনকি রাষ্ট্রও হস্তক্ষেপ করতে পারবে না; কিন্তু পৃথিবীতে নানাভাবেই মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। তারই অনুরূপে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অস্তিত্ব লাভ করে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন যা ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার আইনদ্বারা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার লঙ্ঘন একেবারে বন্ধ করতে না পারলেও কমিশন কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অনেক হ্রাস করা গেছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে কমিশন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করেছে। প্রয়োজনে অনেক সময় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।


মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ বা প্রতিকারের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তির নিকট সুপারিশ করেছে; কিন্তু গত চার মাস ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকায় কমিশন কিছুই করতে পারেনি। অথচ এর মধ্যে দেশে নারী নিপীড়ন, গণপিটুনি এবং ‘মব জাস্টিস’-এর নামে প্রকাশ্যে অপদস্ত করার ঘটনা বেড়েছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ব্যাপকতা পেয়েছে। এ সময় মানবাধিকারের প্রশ্নগুলো জোরালোভাবে উত্থাপিত হওয়া দরকার। অথচ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এখন নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমরা মানবাধিকার কমিশনের আইনটা পরিবর্তন করে নিয়োগ দিতে চাচ্ছি। এখানে আবার বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের কিছু প্রস্তাব আছে। প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে ভালোমতো একটা নিয়োগ দিতে চাচ্ছি। আশা করি, মাস খানেকের মধ্যে হয়ে যাবে।’

যদি মাস খানেকের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন সক্রিয় হয় তাহলে ভালো, অন্যথায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মধ্যস্থা করার কেউ থাকবে না। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব মানবাধিকার কমিশনকে সক্রিয় করা হোক।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ