তিস্তা কর্মসূচি নিয়ে আলজাজিরায় প্রতিবেদন
পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিস্তাপাড়ে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে সোমবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল তিস্তা নদীবেষ্টিত পাঁচটি জেলার ১১টি স্থানে একসঙ্গে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নদীপাড়ের হাজারো বাসিন্দা কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচিতে যোগ দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিস্তা সেতুর লালমনিরহাট পয়েন্ট থেকে কাউনিয়া অভিমুখে গণপদযাত্রা শুরু হয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তিন কিলোমিটার দূরে কাউনিয়া উপজেলায় গিয়ে পথযাত্রা পৌঁছায়।
সেখান থেকে আবার তিস্তা সেতুর দিকে যায় এই পদযাত্রা। দেশের গণমাধ্যমগুলো খুবই গুরুত্ব দিয়ে এই সংবাদ প্রচার করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও এই খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা তাদের ইনসাইড স্টোরিতে তিস্তা কর্মসূচি নিয়ে ২৭ মিনিটি ১০ সেকেন্ডের একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে। এতে তারা তিস্তা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যার সব বিষয়ই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে এনেছে।
আজজাজিরা জানায়, তিস্তা কেবল একটা নদী নয়, লাখ লাখ মানুষের জন্য এটি জীবনরেখা। বহু মানুষের খাদ্য আর আয়ের পথ তিস্তার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং এর সঙ্গে জড়িত বিরাট অর্থনীতিও। বাংলাদেশের পাঁচটি জেলার অন্তত ১ কোটি মানুষ নানাভাবে এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক নদী হওয়া সত্ত্বেও তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে। শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ আরও পানি চায়। এবং তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশ যে বিলিয়ন ডলারের মেগাপ্রজেক্টের পরিকল্পনা করেছিল তারও বাস্তবায়ন চায়; কিন্তু গত আগস্টে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে; তিস্তা মহাপ্রকল্প চুক্তি শেখ হাসিনা করেছিলেন চীনের সঙ্গে।
ভারতের আপত্তির মুখে সেই চুক্তি আটকে আছে। সীমান্তে শত চীনা নাগরিকের উপস্থিতিতে নিরাপত্তার বিঘ্ন হতে পারে এই অভিযোগ তুলে পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলেছিলেন। এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোও চায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। আলজাজিরার সাংবাদিক তানভীর চৌধুরীর প্রতিবেদনে আজকের তিস্তাপাড়ের পুরো চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে। তানভীর চৌধুরী জানান, লানমনিরহাটে তিস্তাপাড়ে হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে।
পরে বাংলাদেশি মানবাধিকার আইনজীবী এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক গবেষক তকবির হুদা, ইতালির বারগামো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের সহযোগী অধ্যাপক ফিলিপ্পো মেঙ্গা এবং ভারতীয় সাবেক কূটনীতিক এবং কলামিস্ট বিবেক কাটজু অতিথি হিসেবে আলজাজিরার সংবাদ উপস্থাপক আদ্রিয়ান ফিনিঘানের সঙ্গে এক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। অতিথিরা জানান, আন্তর্জাতিক নদী হওয়া সত্ত্বেও তিস্তার পানি ইচ্ছামতো আটকে রাখে বা প্রত্যাহার করে ভারত। তারা নদীতে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে; কিন্তু বাংলাদেশের কৃষক পানির অভাবে ফসল ফলাতে পারেন না। আবার বর্ষার মৌসুমে পানি ছেড়ে দিলে ভাঙে বসতবাড়ি, নষ্ট হয় ফসল। নদী ও নদীপারের বাসিন্দাদের রক্ষায় সোচ্চার হতে হবে। ভারতকে বলতে হবে, ‘আমার পানির ন্যায্য হিস্যা আমি চাই।’
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে