Views Bangladesh Logo

শুল্ক ইস্যু

মার্কিন প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান বলেন, শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ শিগগির মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি এবং এ ব্যাপারে শিগগির কিছু ব্যবস্থা নেব। মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভয় পাওয়ার বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

মার্কিন শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আহ্বানে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উচ্চ প্রতিনিধি এ কথা বলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফী সিদ্দিকী, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

উচ্চ প্রতিনিধি বলেন, বিষয়টি হঠাৎ করেই উঠে এসেছে এরকম না কারণ প্রধান উপদেষ্টা এই বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই এ ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

রহমান বলেন, এই নির্দেশের পর, ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইউএসটিআর-এর মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। "তারপর থেকেই আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করছি।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ মার্কিন পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির বলেন, তারা ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি বলেন, তারা চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উভয়ই দেখছেন এবং এই সমস্যাটি মোকাবেলা এবং বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা চলছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের উপর আরোপিত শুল্ক এবং বাণিজ্যের প্রকৃতি এবং কাঠামোর উপর ভিত্তি করে, তারা প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুসরণ করবেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নিজেও এই বিষয়ে রূপরেখা দেয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, খবর ইউএনবি।

সন্ধ্যায় প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নতুন বিশ্ব বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক ব্যবস্থায় বাংলাদেশ উপকৃত হবে। তিনি বলেন, এ সরকার খুবই ব্যবসা ও রপ্তানিবান্ধব এবং গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি হ্রাসের পরিবর্তে তা বৃদ্ধি পাবে।

"আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন যে বাংলাদেশের রপ্তানি মার্কিন বাজার এবং সমগ্র পশ্চিমা বাজারে উৎসাহিত হবে। সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে," আলম বলেন।

তিনি বলেন, বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান শীর্ষ ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে তাদের সুপারিশ পেতে এবং মার্কিন প্রশাসনের কাছে কী লেখা উচিত তা নির্ধারণের জন্য পৃথকভাবে একটি বৈঠক করেছেন।

সরকার তাদের সুপারিশগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে কারণ তারা রপ্তানিকারক, প্রেস সচিব বলেন।  এর আগে প্রধান উপদেষ্টা শীর্ষ বিশেষজ্ঞ, উপদেষ্টা এবং কর্মকর্তাদের সাথে একটি দীর্ঘ জরুরি বৈঠক করেন এবং মার্কিন শুল্ক সমস্যা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি ও রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ জায়েদী সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড আহসান এইচ মনসুর, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান এবং অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন "শুল্ক" নীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশর পণ্য আমদানিতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছে।

বর্তমানে, বেশিরভাগ বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন বাজারে প্রবেশের জন্য ১৫% শুল্ক আরোপ করা আছে।নতুন হার বর্তমান হারের দ্বিগুণেরও বেশি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ