রমজানের আগে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ঘটনাটা এখনো কোনো সংবাদমাধ্যমে সেভাবে আসেনি; কিন্তু অনেক এলাকায়, বিশেষ করে ঢাকা শহরের অনেক মুদির দোকানেই সয়াবিন তেল এখন খোলাখুলি বিক্রি করে না; পরিচিত হলে লুকিয়ে বিক্রি করে। এর কারণটা নিশ্চয়ই অনুমান করা যায়। রমজান উপলক্ষে যদি সয়াবিল তেলের দাম বাড়ে সে জন্য আগে থেকেই অনেক পাইকারি ও মুদির দোকানদার তেল মজুত করে রাখছেন। রোজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই দেখা যাচ্ছে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুধ, ডিম, মুরগি, কলা, বেগুন, শসা, লেবু ইত্যাদি পণ্যের ক্ষেত্রে। মাছের বাজারও কিছুটা চড়া। এসব পণ্যমূল্য আরও কতটা চড়বে বোঝা যাবে আগামী শুক্র-শনিবারেই।
যদিও সরকার বারবার বলছে, রমজান মাসে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে; কিন্তু এমন কিছু পণ্য আছে যার দাম বাড়লেও সরকার কিছু করতে পারে না; কারণ ওসব পণ্যদ্রব্যের নির্দিষ্ট কোনো মূল্য সেখানে বাধ্যগতভাবে নির্ধারিত থাকে না; ক্রেতা-বিক্রেতার দামাদামিতেই তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত হয়। যেমন কলা, শসা, বেগুন, লেবু ইত্যাদি। ডাল-দুধ-ডিম-মুরগির দাম হয়তো নির্ধারিত করে দেয়া যায় একটা নির্দিষ্ট হারে, কিছু সবজি সেভাবে নির্ধারিত করে দেয়া যায় না। আমরা আশা করব সরকার এবার এদিকেও দৃষ্টি দেবে। ক্রেতার জরুরি প্রয়োজনের সুযোগ নিয়ে কোনো বিক্রেতা যেন কোনো দ্রব্যেরই অযথা মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে।
সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, এর মধ্যেই অনেক জেলা প্রশাসক তার অঞ্চলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কে কী করেছে, তা জানার প্রয়োজন নেই। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে কেউ সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার চেষ্টা করলে, প্রশাসন আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ব্যবসায়ীদের যদি কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করুন। আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। তবে যদি কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, তাহলে ছাড় দেয়া হবে না।’
আমরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। অন্যান্য জেলা প্রশাসককেও এরকম উদ্যোগ এখনই গ্রহণ করতে হবে। এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে রোজা শুরু হলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো কঠিন হয়ে যাবে। আমরা জানি কিছুদিন আগেই ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। রমজানে যদি আবার বাড়ানো হয় তা হবে অন্যায্য। এর জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এখনই সজাগ থাকতে হবে। পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই মনে রাখতে হবে মাহে রমজান পবিত্র মাস, সিয়াম সাধনাই এই মাসের উদ্দেশ্য। এ মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য ও খাবার-দাবারের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য না। রমজান মাসে সবাই ধৈর্যধারণ ও ব্যবসায়িক শুদ্ধতা বজায় রাখবেন সেটাই ধর্মের শিক্ষা।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে