ঢাকার বাসাবাড়িতে তীব্র গ্যাস সংকট
রাজধানী ঢাকার আবাসিক এলাকাগুলোতে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে রাজধানীবাসী। অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘক্ষণ থাকছে না গ্যাস, থাকলেও চাপ খুবই কম। আবার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরবরাহ একেবারেই বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ। গভীর রাতে করতে হচ্ছে রান্না। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গৃহিণীরা।
মোহাম্মদপুর সলিমুল্লাহ রোডের গৃহিণী গোলাপি বলেন, ‘সারা দিন ক্লান্তি শেষে যখন ঘুমোতে যাওয়ার সময় তখন আসে গ্যাস। রাত সাড়ে ১১টার পর তখন চুলা ধরাতে হয়। গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্না করতে সময় লাগে দুই থেকে তিনগুণ। এক দিনের রান্না করে খেতে হয় পরের দিনও।’ এই দুর্বিষহ যন্ত্রণার অবসান কখন হবে- প্রশ্ন রেখে বিরক্তির সুর তুলে ধরেন তিনি। একই অবস্থা মিরপুর, আদাবর, ধানমন্ডিসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে।
ঢাকার কল্যাণপুরে এক বাড়ির মালিক জোবায়ের মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের বাসায় বিল্ডিংজুড়ে ১২টি গ্যাসের লাইন। প্রায় সারা দিন গ্যাস থাকে না। বিশেষ করে শুক্রবার সারা দিনই কোনো গ্যাস আসে না। দুটি করে চুলা থাকা সত্ত্বেও একটি চুলা জ্বালিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রান্না করতে হয়। কারণ গ্যাসের চাপ এতই কম থাকে যে, দুই চুলা একসঙ্গে জ্বলে না।’
শীতকালে সাধারণত গ্যাসের চাপ কম থাকে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় পাইপ লাইনে তরল পদার্থ জমে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা কমে যায়। তবে এ সংকটের ভোগান্তি রাজধানীবাসীর দীর্ঘ দিনের। তার মধ্যে বছরজুড়ে সংস্কার মেরামতে গ্যাস সংকটে আরও ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রাহক।
১ থেকে ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে আরএলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজের জন্য। যার প্রভাবে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতিতে ভোগান্তির শিকার হয় রাজধানীসহ দেশবাসী। সেই তীব্র সংকট কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই পেট্রোবাংলা আবারও ঘোষণা দিয়েছে ১০ থেকে থেকে ১৩ জানুয়ারি অবধি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ওই টার্মিনাল আবার বন্ধ থাকবে। আর এ কারণে সারা দেশে তিন দিন গ্যাসের চাপ কম থাকবে।
গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে স্বল্প চাপে আবারও আবাসিক খাতে তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছে রাজধানীবাসী। সারা বছর সমস্যা থাকলেও গত তিন মাসে গ্যাসের সমস্যা ভয়াবহ। বাসায় হঠাৎ মেহমান এলে বিপদে পড়তে হয়। এলপিজি সিলিন্ডার কিনে বাসায় রান্নার কাজ করতে হয় বলে জানান ঢাকার ইস্কাটনের স্থায়ী বাসিন্দা তওসীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভোর ৫টায় গ্যাস চলে যায় আর আসে সন্ধ্যার পরে। তাও এত কম সরবরাহ যে, রান্না শেষ করতেই অনেক সময় লেগে যায়। বছরজুড়ে এ সমস্যা লেগে থাকলেও গত তিন মাসে এ সমস্যা অনেক বেশি। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রনিক চুলার সঙ্গে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে পাইপ লাইনে তরল পদার্থ জমে স্বাভাবিকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকে, পুরোনো লাইন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আবাসিক ও বাণিজ্যিক লাইনে সরবরাহ পৃথকভাবে না থাকা, এ ছাড়া মহেশখালীতে এলএনজি স্টেশনে সংস্কার ও মেরামতের জন্য সরবরাহ বন্ধ এবং সর্বোপরি নিজস্ব উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে গ্যাসসংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সবার প্রশ্ন একটাই গ্যাস সংকট সমাধান কবে?
তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক গ্যাস সংকটের বিষয়ে ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, সংস্কারসহ নানা কারণে গ্যাসের চাপ কম। এ ছাড়া শীতকালে এমনিতে সরবরাহ লাইনে তরল গ্যাস জমাট বেঁধে যায়, এতে গ্যাসের চাপ কমে যায়। এ ছাড়া তিতাস এলাকায় ১ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও বিভিন্ন টার্মিনাল বন্ধ ও শীতের কারণে ২০০ মিলয়ন ঘনফুট গ্যাস কম আসছে। তবে আশা করছি, শিগগির এ সমস্যার সমাধান হবে।’
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে