Views Bangladesh Logo

লালমনিরহাটের ডিসি স্বাধীনতা বিরোধী, অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধাদের

Masum   Hossain

মাসুম হোসেন

কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার পর এবার ভেঙে ফেলা হয়েছে লালমনিরহাট শহরের বিডিআর রোডে শিশু পার্কসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্মারক মঞ্চের ম্যুরাল।


এর আগে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা দিবস ও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।


রোববার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সেটি ভাঙার কাজ করেন শ্রমিকরা।


অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এইচ এম রকিব হায়দারের নির্দেশে ম্যুরালটি ঢেকে রাখা ও ভেঙে ফেলা হয়। ডিসি  স্বাধীনতাবিরোধী মতাদর্শ ধারণ করেন বলেও মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ।


স্মৃতিস্মারক মঞ্চের ম্যুরালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্মৃতিচিহ্ন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চরমপত্র পাঠ, মুজিবনগর সরকার গঠন, একাত্তরের গণহত্যা, বিজয় উল্লাসে মুক্তিযোদ্ধারা, মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী, সাত বীরশ্রেষ্ঠ ও পতাকা হাতে হাতে বিজয়ে উচ্ছ্বসিত জনতা।


অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, 'আমি কোনোভাবেই এসবে জড়িত নই। কারা জড়িত, সে বিষয়েও কিছু বলতে পারবো না'।


তবে স্থানীয় কিছু সাংবাদিক ভিউজ বাংলাদেশকে জানান,  জেলা প্রশাসক নিজেই প্রথমে সেটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন। পরে তারই নির্দেশে ম্যুরালটি ভেঙে ফেলা হয়।


ম্যুরালের যে যে স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি রয়েছে, সেসব স্থান ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও জানান তারা।


সাংবাদিকরা বলেন, ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার কারণ হিসেবেও জেলা প্রশাসক গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, অনেকের আপত্তি ও 'জুলাই আন্দোলনের চেতনার' সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অথচ ম্যুরালটির বিষয়ে কোনো পক্ষকেই আপত্তি তুলতে দেখা যায়নি।


জেলা প্রশাসকের তাণ্ডবেই বর্তমানে ম্যুরালটি ধ্বংসাবশেষ হয়ে আছে বলে জানান জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক বীরপ্রতীকও।


তিনি ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন,  জেলা প্রশাসকের নির্দেশেই ম্যুরালটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার পর ভেঙে ফেলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের প্রতি তীব্র ঘৃণাও প্রকাশ করেন তিনি। 


তাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলেও দাবি করেন বীরপ্রতীক আজিজুল হক।


তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তারই নেতৃত্ব আমরা যুদ্ধ করেছি। ওই ম্যুরালে শুধু বঙ্গবন্ধুকেই নয়, মুক্তিযুদ্ধের আরও অনেক কিছু ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। পরবর্তী প্রজন্ম সেটি দেখলেই সেসব ইতিহাস জানতে পারতো'।


যাদের দেশপ্রেম আছে, যারা দেশকে ভালোবাসেন, তাদের সবাইকে এ ঘটনার প্রতিবাদে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ