অর্থ আত্মসাতের দায়ে লে পেনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা
অর্থ আত্মসাতের দায়ে কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লে পেনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ফ্রান্সের একটি আদালত। একইসঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে সংসদীয় সহকারীদের জন্য বরাদ্দ তিন মিলিয়ন ইউরো দলের কাজে ব্যয় করেছেন।
ফরাসি টিভি চ্যানেল টিএফ১-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে আদালতের এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নিন্দা করেছেন লে পেন। তিনি অভিযোগ করেন, এটি ২০২৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়া ঠেকানোর লক্ষ্যে করা হয়েছে।
লে পেন বলেন, এই রায়ে লাখ লাখ ফরাসি নাগরিক “ক্ষুব্ধ” এবং এটিকে আইনের শাসনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন এই কট্টর ডানপন্থি নেত্রী। একইসঙ্গে ২০২৭ সালের নির্বাচনী প্রচারণার আগে আদালতের কার্যক্রম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এর ফলে আপিলের ফলাফল না আসা পর্যন্ত প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য থাকবেন লে পেন।
নির্বাচনি নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে তার বিরুদ্ধে চার বছরের কারাবাসের সাজাও ঘোষণা করা হয়েছে। চার বছরের মধ্যে দুই বছর গৃহবন্দি থাকবেন তিনি এবং বাকি দুই বছর কারাদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। তবে আপিল বিচারাধীন থাকায় এই সাজা আপাতত কার্যকর হবে না।
এই রায় ফরাসি রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। কারণ রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার উত্তরসূরি হওয়ার অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুর্বল করে দিল। প্রভাব এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, লে পেনের কিছু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীও আদালতের এই সিদ্ধান্তকে অতিরিক্ত কঠোর বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে এই রায় ভোটারদের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত নয়। লে পেনের সম্ভাব্য অযোগ্যতা তার প্রবল সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে পারে, যেমনটি যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু সমর্থক আইনি সমস্যার মধ্যেও উদ্দীপিত হয়েছিল। আবার এটি তাকে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে আরও দূরে ঠেলে দিতে পারে এবং তার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক গতিকে স্তব্ধ করে দিতে পারে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে