Views Bangladesh Logo

দাবি আদায়ে অনড় তিতুমীর শিক্ষার্থীরা, বিপাকে সরকার

Rasel Mahmud

রাসেল মাহমুদ

রকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি দুপুর ১২টার দিকে তারা কলেজের সামনের মহাখালী-গুলশান সড়ক বাঁশ দিয়ে অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া আন্দোলনে চারজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। এরপরও আন্দোলনে অনড় রয়েছেন তারা। তবে সরকার বলছে, তিতুমীর কলেজকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই। দাবির মুখে সরকার আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে না বলেও জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থান অন্যদিকে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা যেন দুই পক্ষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আন্দোলনের কারণে প্রত্যেকদিন রাস্তায় যানজট হচ্ছে। এতে কর্মঘণ্টা যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হচ্ছে। সরকার দাবি মেনে নিতেও পারছে না, আন্দোলনকারীদের সরাতেও পারছে না। এক ইস্যুতে চরম বিপাকে পড়েছে সরকার।

কলেজটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অংশও কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিকে অবান্তর বলে মনে করছেন। অন্য পক্ষটি আবার শিক্ষার্থীদের আবেদন রিভিউ করার পক্ষে।

জানা গেছে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হওয়ার পর থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে তারা সড়কসহ রেলপথ অবরোধ করে দাবি আদায়ের চেষ্টা করেন। তবে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এই দাবির মধ্যেই সরকার সম্প্রতি ঘোষণা দেয় তিতুমীর কলেজসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের জন্য পৃথক একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। সরকারের এই ঘোষণা ‘আগুনে ঘি ঢালা’র মতো কাজ করেছে। শিক্ষার্থীরা সরকারের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে আমরণ অনশন শুরু করে।

দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীরা মোট ৭ দফা দাবি জানায়। শনিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, সাত কলেজ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের কাজ চলছে এবং তিতুমীর কলেজের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করে এতে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়, এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। তবে মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে ৭ দফা থেকে সরে এসে বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতির একদফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।

কলেজটির শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান মুক্তার বলেন, ‘আমাদের দাবি এখন একটাই। তিতুমীরকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করতে হবে।’

এদিকে রোববার শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, তিতুমীর কলেজকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই। কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা যৌক্তিকও হবে না। সরকার দাবির মুখে আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে না বলেও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমি মনে করি এই মুহূর্তে রাজশাহী কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা উচিত। কারণ এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো কলেজ। তিতুমীর কলেজের অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসে ফিরে যেতে চায়। তারা জনদুর্ভোগ চায় না। জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ জানাই। সাত কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একে অপরকে চায় না। তাই ৭ কলেজকে নিয়ে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য একটি কমিটি কাজ করছে। দাবি বাস্তবায়নে সময় বেঁধে দেয়া কাঙ্ক্ষিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

এদিকে তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের দাবিতে দ্বিধা-বিভক্ত সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিকে যৌক্তিক মনে করলেও অধিকাংশই এটাকে অবান্তর বলে মনে করছেন।

কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাশেদুজ্জামান ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, কলেজ হিসেবেই তিতুমীর অনন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করে কলেজটির স্বাতন্ত্র্য নষ্ট করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়লেও শিক্ষার মান বাড়েনি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সাতটি কলেজ নিয়ে সরকারের আলাদা একটি ইনস্টিটিউশন করা উচিত। কিন্তু শুধু তিতুমীরকে বিশ্ববিদ্যালয় করা ঠিক হবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিতুমীর কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, এখন যে দাবিতে আন্দোলন চলছে তা কোনোভাবেই আমি যৌক্তিক মনে করছি না। এই আন্দোলনের কারণে শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়েনি, আমরা শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আন্দোলন ইস্যুতে সরকারকে আরও কঠোর হওয়া দরকার।

কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন সোহলে ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘তিতুমীর কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি। কারণ এটি একটি দীর্ঘ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হলে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত হবে, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।’

সাবেক শিক্ষার্থী আহমেদ ফেরদাউস খান ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ৭ কলেজের অধিভুক্তি বাতিল হওয়ায় নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন পড়েছে। তবে ৭ কলেজ নিয়ে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় করলে সংকট আরও বাড়বে। সব দিক বিবেচনা করলে তিতুমীরকে বিশ্ববিদ্যালয় করার যৌক্তিকতা রয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ