Views Bangladesh Logo

ভোক্তার অধিকার কতটা সংরক্ষণ হচ্ছে?

বিশ্বের সব দেশেই ব্যবসায়ীদের আলাদা সম্মানের চোখে দেখা হয়। আমাদের দেশেও তা-ই; কিন্তু সিংহভাগ ব্যবসায়ী গ্রাহক ঠকাতে সিদ্ধহস্ত। ভেজাল পণ্য বিক্রি, ওজনে কম দেয়া, অতিরিক্ত মুনাফা এমন নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অথচ ভোক্তা অধিকার মানবাধিকারের একটি। এটি নাগরিক অধিকারও বটে। এই অধিকার থেকে আমরা প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছি। ভেজাল পণ্য ব্যবহার করে আমরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। নিভে যাচ্ছে জীবন প্রদীপ। বিড়ম্বনা তো আছেই। সঠিকভাবে মূল্য পরিশোধ করার পরও তাকে সঠিক পণ্য, সঠিক সেবা দেয়া হয় না। শুধু কী তাই? না। এই ব্যবসায়ীদের কাছে ঠকছে সরকারও। পণ্যের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) গ্রাহকের কাছ থেকে নিলেও তারা সঠিকভাবে সরকারের কোষাগারে জমা দিচ্ছেন না। কর ফাঁকি তো চলছে পুরোদমে।

এই অসাধু ব্যবসায়ীদের শায়েস্তা করার কী কোনো পথ আছে? হ্যাঁ, আছে। আইনে এই পথ আছে। ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষা করতে ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করে সরকার। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বাস্তবায়ন, উন্নয়ন, ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্যকালাপ প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করা। ভোক্তা ঠকানোর বিষয়টি শুধু এ দেশে নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই হচ্ছে। সুপার পাওয়ার আমেরিকাতেও ভোক্তার অধিকার হরণ করা হতো। বিষয়টি উঠে এসেছে ১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কংগ্রেসে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বক্তৃতায়। নিরাপত্তার অধিকার, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, পছন্দের অধিকার এবং অভিযোগ প্রদানের অধিকার- ভোক্তাদের এই চারটি মৌলিক অধিকার সম্পর্কে তিনি আলোকপাত করেন। পরবর্তীতে এটা ভোক্তা অধিকার আইন নামে পরিচিতি পায়। জাতিসংঘে ১৯৮৫ সালে কেনেডির উল্লেখ করা চারটি মৌলিক অধিকারকে আরো বিস্তৃত করা হয়। সেখানে আটটি মৌলিক অধিকার করা হয়। এরপর কনজ্যুমারস ইন্টারন্যাশনাল এসব অধিকারকে সনদে অন্তর্ভুক্ত করে।

জাতিসংঘ স্বীকৃত ভোক্তা অধিকার ৮টি হলো- ১. মৌলিক চাহিদা পূরণের অধিকার; ২. তথ্য পাওয়ার অধিকার; ৩. নিরাপদ পণ্য বা সেবা পাওয়ার অধিকার; ৪. পছন্দের অধিকার; ৫. জানার অধিকার; ৬. অভিযোগ করা ও প্রতিকার পাওয়ার অধিকার; ৭. ভোক্তা অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে শিক্ষা লাভের অধিকার এবং ৮. সুস্থ পরিবেশের অধিকার। কেনেডির ভাষণের দিনকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৫ মার্চকে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও বাস্তবায়নে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন আইন এবং দিক-নির্দেশনা প্রণয়ন করে। তার মধ্যে ইউনাইটেড নেশন্স গাইডলাইন্স ফর কনজ্যুমার প্রটেকশন (অ্যাজ এক্সপান্ডেড) ১৯৯৯; ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আনফেয়ার কমার্শিয়াল প্রাকটিসেস ডিরেকটিভ, ২০০৫; দ্য কনজ্যুমার প্রটেকশন ফ্রম আনফেয়ার ট্রেডিং রেগুলেশন, ২০০৮ উল্লেখযোগ্য।

এখন প্রশ্ন হলো, ভোক্তাদের জন্য আটটি অধিকারের স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘ; কিন্তু এই ভোক্তা কে বা কারা? এই প্রশ্নের উত্তর ভোক্তা অধিকার আইনেই রয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ধারা ২ এর উপ-ধারা ১৯ বলছে, ভোক্তা অর্থ কোনো ব্যক্তি। ক. যিনি পুনঃবিক্রয় ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ব্যতীত-মূল্য পরিশোধে বা মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে কোনো পণ্য ক্রয় করেন বা আংশিক পরিশোধিত ও আংশিক প্রতিশ্রুত মূল্যের বিনিময়ে কোনো পণ্য ক্রয় করেন বা প্রলম্বিত মেয়াদ বা কিস্তির ব্যবস্থায় মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে কোনো পণ্য ক্রয় করেন; খ. যিনি ক্রেতার সম্মতিতে ক্রীত পণ্য ব্যবহার করেন; গ. যিনি পণ্য ক্রয় করিয়া উহা, আত্মকর্ম সংস্থানের মাধ্যমে স্বীয় জীবিকা অর্জনের উদ্দেশ্যে, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করেন; ঘ. যিনি মূল্য পরিশোধে বা মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে কোনো সেবা ভাড়া বা অন্যভাবে গ্রহণ করেন বা আংশিক পরিশোধিত ও আংশিক প্রতিশ্রুত মূল্যের বিনিময়ে কোনো সেবা ভাড়া বা অন্যভাবে গ্রহণ করেন বা প্রলম্বিত মেয়াদ বা কিস্তির ব্যবস্থায় মূল্য পরিশোধের বিনিময়ে কোনো সেবা ভাড়া বা অন্যভাবে গ্রহণ করেন; ঙ. যিনি সেবা গ্রহণকারীর সম্মতিতে দফা ‘ঘ’ এর অধীন গৃহীত কোনো সেবার সুবিধা ভোগ করেন।

এ ক্ষেত্রে ক্রেতাকেও সাবধান হতে হবে; সচেতন হতে হবে। ল্যাটিন ‘Caveat Emptor’ হলো ক্রেতা সাবধান নীতি। এই নীতিতে পণ্য কেনার আগে ক্রেতাকে ভালোভাবে এর মান যাচাই-বাচাই করতে বলা হয়েছে। কেনার আগে মান যাচাই করা না হলে পরবর্তীতে কোনোও অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না। ক্রেতা সাবধান নীতি মনে করে, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়পক্ষই সমান জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। পণ্যের মোড়কে পণ্যের ওজন, পরিমাণ, উপাদান, ব্যবহারবিধি, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাত ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ দেখে পণ্য ক্রয় করা। মূল্য রশিদ সংগ্রহ; বিজ্ঞাপন না বুঝে পণ্য ক্রয় থেকে বিরত থাকা; ট্রেডমার্ক সংবলিত পণ্য ক্রয়; দ্রব্য বা সেবা সম্পর্কে অন্ধ বিশ্বাস পরিহার করা এবং দ্রব্য বা সেবা সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করা।

ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণের জন্য সরকার ২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করে। এই আইনে বিক্রেতাদের ব্যাপারেও কিছু নির্দেশনা দেয়া আছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ধারা ২-এর উপ-ধারা ১৬ বলছে, ‘বিক্রেতা’ অর্থ কোনো পণ্যের উৎপাদনকারী, প্রস্তুতকারী, সরবরাহকারী এবং পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। এই আইনে যারা অভিযোগ করতে পারবেন; তারা হলেন ক. কোনো ভোক্তা; খ. একই স্বার্থসংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক ভোক্তা; গ. কোনো আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো ভোক্তা সংস্থা; ঘ. জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বা উহার পক্ষে অভিযোগ দায়েরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা; ঙ. সরকার বা এতদুদ্দেশ্যে, সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা; চ. সংশ্লিষ্ট পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী। অপরাধ করলে শাস্তির বিধানও আছে এই আইনে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে সব অপরাধ জামিনযোগ্য, আমলযোগ্য ও আপোষযোগ্য। ৩৭ থেকে ৫৫ ধারা পর্যন্ত অপরাধ ও শাস্তি সম্পর্কে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। ধারা ৩৭ মতে, কোনো ব্যক্তি কোনো আইন বা বিধি দ্বারা কোনো পণ্য মোড়কাবদ্ধভাবে বিক্রয় করার এবং মোড়কের গায়ে সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওজন, পরিমাণ, উপাদান, ব্যবহার-বিধি, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয় মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাতকরণের তারিখ এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

৩৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো আইন বা বিধি দ্বারা আরোপিত বাধ্যবাধকতা অমান্য করে তার দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সহজে দৃশ্যমান কোনো স্থানে পণ্যের মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করে সেই অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ৩৯ ধারা মতে, আইন বা বিধি দ্বারা আরোপিত বাধ্যবাধকতা অমান্য করে তার দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সেবার মূল্যের তালিকা সংরক্ষণ না করলে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে বা সহজে দৃশ্যমান কোনো স্থানে উক্ত তালিকা প্রদর্শন না করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ধারা ৪০-এ বলা হয়েছে, আইন বা বিধির অধীন নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে কোনো পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রয় বা বিক্রয়ের প্রস্তাব করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ৪১ ধারা বলছে, কোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে ভেজাল মিশ্রিত পণ্য বা ওষুধ বিক্রয় করলে বা করতে প্রস্তাব করলে তিনি অনূর্ধ্ব তিন বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারা ৪৪ বলছে, কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অসত্য বা মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ধারা ৪৫-এ উল্লেখ আছে, কোনো ব্যক্তি প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করলে তিনি অনূর্ধ্ব ১ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আবার ধারা ৪৬-এ বলছে, কোনো পণ্য সরবরাহ বা বিক্রয়ের সময় ভোক্তাকে প্রতিশ্রুত ওজন অপেক্ষা কম ওজনে উক্ত পণ্য বিক্রয় বা সরবরাহ করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এই আইনের ধারা ৪৯-এ বলা হয়েছে, কোনো পণ্য বিক্রয় বা সরবরাহের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তির দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দৈর্ঘ্য পরিমাপের কার্যে ব্যবহৃত পরিমাপক ফিতা বা অন্য কিছুতে কারচুপি করা হলে হলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

৫১ ধারা বলছে, মেয়াদ উত্তীর্ণ কোনো পণ্য বা ওষুধ বিক্রয় করলে বা করতে প্রস্তাব করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ধারা ৫৩ বলছে, কোনো সেবা প্রদানকারী অবহেলা, দায়িত্বহীনতা বা অসতর্কতা দ্বারা সেবা গ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য বা জীবনহানী ঘটালে তিনি অনূর্ধ্ব তিন বছর কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়াও খাদ্য পণ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ, বাটখারা বা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে কারচুপির, পরিমাপে কারচুপি, পণ্যের নকল প্রস্তুত বা উৎপাদন করার, সেবাগ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্য করার ও অপরাধ পুনঃসংঘটন উক্ত আইন মোতাবেক দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে এই আইনের ৫৪ ধারায় মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। এই ধারা মতে, কোনো ব্যক্তি, কোনো ব্যবসায়ী বা সেবা প্রদানকারীকে হয়রানি বা জনসমক্ষে হেয় করা বা তার ব্যবসায়িক ক্ষতি সাধনের অভিপ্রায়ে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করলে উক্ত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৩ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৬০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই আইনের অধীন অভিযোগ দায়ের করতে হবে। অন্যথায় অভিযোগ গ্রহণযোগ্য হবে না। দায়েরকৃত আমলযোগ্য অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত ও জরিমানা আরোপ করা হলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ধারা ৭৬(৪) অনুযায়ী, আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে প্রদান করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো ভোক্তা স্থানীয় যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবেন। কোনো বিক্রেতা ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্যের দ্বারা কোনো ভোক্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করলে এবং উক্ত ক্ষতির পরিমাণ আর্থিক মূল্যে নিরূপণযোগ্য হলে উক্ত নিরূপিত অর্থের অনূর্ধ্ব পাঁচগুণ পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে এখতিয়ার সম্পন্ন যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করা যাবে। এসব মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে আইনে। এই আইনের অধীনে দেওয়ানী আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যাবে।

ফৌজদারি অভিযোগের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত রায় বা আদেশ দ্বারা কোনো পক্ষ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি উক্ত রায় বা আদেশ প্রদত্ত হবার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে সেশন জজের আদালতে আপিল করতে পারবেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে বাজার তদারকি, ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ এবং এই সংক্রান্ত অপরাধের বিচার ও নিস্পত্তি করে। কিন্তু এই আইন দিয়ে সব অভিযোগ নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না। কারণ এই আইনে ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিকম, বাড়ি-ভাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান যেমন ওয়াসা, ডেসা বা তিতাসের গ্রাহকদের কোনো অভিযোগ আমলে নিতে পারে না ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ ছাড়া এই অধিদপ্তরে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। তাদের কার্যক্রম সব জেলায় নেই।


সিরাজুল ইসলাম: বার্তা সম্পাদক, দৈনিক ভোরের আকাশ।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ