Views Bangladesh Logo

রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন সম্পর্কে আরও নজরদারি জরুরি

রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিসহ তার সহযোগী আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা থেকে আশঙ্কা করা যায় বাংলাদেশে লুকিয়ে আছে আরও আরসা সদস্য। নিঃসন্দেহে এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত। গত সোম ও মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আতাউল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির প্রধান। তিনি আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে খুনের নির্দেশদাতা। অন্তত চার আসামির জবানবন্দিতে ওই হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে আসে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানে ডিজিএফআইর কর্মকর্তা (স্কোয়াড্রন লিডার) রিজওয়ান রুশদী হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি আরসাপ্রধান কমান্ডার আতাউল্লাহ। গ্রেপ্তার অন্যদের মধ্যে আছেন আরসা সদস্য মোস্তাক আহাম্মদ, মনিরুজ্জামান, সলিমুল্লাহ, মোসাম্মৎ আসমাউল হোসনা, মো. হাসান, আসমত উল্লাহ, হাসান ও মোসাম্মত শাহিনা।

নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মঈনুদ্দিন কাদিরের আদালতে তোলা হয় তাদের। এদের মধ্যে ছয়জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় পাঁচ দিন করে মোট ১০ দিন রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিন করে দুই মামলায় মোট ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন। গ্রেপ্তার বাকি চারজনের মধ্যে তিনজন নারী এবং একজন শিশু। তাদের একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো আরসা নারী এবং শিশুদেরও বিদ্রোহী সংগঠনের কাজে ব্যবহার করছে এবং তারা বাংলাদেশে বর্তমানে কত সংখ্যক আছে, তা অজানা। তাদের কার্যক্রম কীরকম তাও এখন পর্যন্ত ধারণা নেই। তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ থেকে হয়তো অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে; কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনই বাংলাদেশের আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে এ মুহূর্তে আশ্রিত আছে ১২ লাখের ওপর রোহিঙ্গা শরণার্থী। এতসংখ্যক শরণার্থী কোনো দেশে দীর্ঘদিন আশ্রিত থাকা নানা দিক দিয়েই নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং রোহিঙ্গা-সংকট বাংলাদেশের জন্য ধীরে ধীরে একটা জাতীয় সংকটেই রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা-ক্যাম্প পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত যাবার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসও এমন আশ্বাসবাণী দিয়েছেন যে আগামী রোজার ঈদের আগেই রোহিঙ্গা দেশে ফেরত যাবে; কিন্তু রোহিঙ্গা-সংকটটি যতটা জটিল এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে। এর মধ্যে আরসার মতো গোপন বিদ্রোহী গোষ্ঠী যদি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠবে। তাই রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনগুলো সম্পর্কে আরও নজরদারি এখনই জরুরি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ