বইমেলায় খুব একটা সাড়া পাচ্ছেন না চিত্রশিল্পীরা
অমর একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশমুখে যে কোন দর্শকদের চোখে পড়বে চিত্রশিল্পীদের ছোট ছোট ব্যানার। ব্যানারে লেখা আছে ‘এখানে মাত্র ৫-১০ মিনিটে সরাসরি আপনার ছবি আঁকা হয়।’ ফুটপাতে টুলের ওপর বসে আছেন, এমন কয়েকজন চিত্রশিল্পীদের দেখা যাবে। তাদের সামনে স্থির হয়ে বসে আছেন, যারা নিজেদের ছবি আঁকতে চান। মূলত এখানে পোট্রেট আঁকা হয়। একটা ছবির বিনিময়ে তারা ৫০০ থেকে শুরু করে ৮০০ বা ১ হাজার টাকা সৌজন্য নেন। তবে ফোন থেকে দেখে আঁকার ক্ষেত্রে খরচটা একটু বেশি। কারও কাছে টাকা না থাকলে তাদের কাজ ২০০ টাকায়ও করে দেয় তারা। এসবকে কেন্দ্র করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে। এবারও বইমেলার প্রবেশমুখে ৮-১০ জন চিত্রশিল্পীর দেখা মিলল। এ যেন মেলার মধ্যে আলাদা এক আকর্ষণের জন্ম দিয়েছে।
বইমেলায় কথা হয় চিত্রশিল্পীদের সাথে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন, কারা ছবি আঁকতে আগ্রহী কিংবা চিত্রশিল্পের অবস্থা কেমন—এসব জানতে চাওয়া। বেশিরভাগ চিত্রশিল্পী জানান, মেলায় আগের মতো সাড়া পাচ্ছে না। আগের চেয়ে এখন ছবি আঁকার অর্ডার কম।
বইমেলার প্রবেশমুখে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরেই বসেন চিত্রশিল্পী বিশু। ছবি আঁকাআঁকির প্রতি তার ভীষণ ভালো লাগার কথা উল্লেখ করে বিশু বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি আঁকি। এটাই আমার পেশা। ছবি আঁকা ছাড়া আর কোনকিছু ভালো লাগে না। তরুণ-তরুণীরাদের পাশাপাশি সব শ্রেণির লোকরাই আসছে। তবে শিক্ষার্থীরাই বেশি। প্রতিদিন ৪-৫ টা করে ছবি আঁকছি। তবে আরেকটু সাড়া পেলে ভালোই লাগতো।
বইমেলা বাণিজ্যমেলা আমাদের শিল্পীদের জন্য এক ধরনের প্রচার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অনেকে নাম্বার নিয়ে যোগাযোগ করে ছবি আঁকার অর্ডার করে। সব মিলিয়ে কাজটা উপভোগ করি।
১৯৮০ সালে ঢাকা চারুকলা থেকে পাশ করেন চিত্রশিল্পী মনজুল হক বাবু। বাবু বলেন, আমার রুমমেট ছিলেন অভিনেতা আফজাল হোসেন, তিনি পরামর্শ দিলেন, তুমি তো ভালো ছবি আঁকো, বইমেলায় দেখো, বসো। ‘৫-১০ মিনিটে আপনার ছবি আকা হয় এখানে’ তখন শুরু হয়েছিল। দু’য়েকটা আঁকার পরে এত সাড়া মিলল যে, ডেলিভারি দিয়েই সারতে পারতাম না। এখন সেটা কমে গেছে।
বর্তমানে তিনি সাভার গার্লস স্কুলের ড্রয়িং শিক্ষক। বইমেলায় প্রতিদিন ৫-৬টি ছবি আঁকার অর্ডার পাচ্ছেন জানিয়ে মনজুল হক বাবু বলেন, বাণিজ্য মেলা ও বইমেলায় মোটামুটি সাড়া আছে। মেয়েরা ছবি আকার প্রতি আগ্রহ বেশি।
তিনি আরও বলেন, আমার দেখাদেখি গত ১৫-২০ বছরের অনেকে ছবি আঁকায় আগ্রহী হয়েছে। আমি চাই যে আমাদের জুনিয়াররা বসুক। আমাদের তো বয়স হয়ে গেছে। সাভারে একটি আর্ট স্কুলের স্বপ্নও দেখেন মনজুল হক বাবু।
তরুণ চিত্রশিল্পী পান্থ জানান, মানুষে আসছে তবে আগের মতো ছবি আঁকার অর্ডার পাচ্ছি না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর খুবই কম। দিনে তিন চারটা আঁকতে পারছি। আরেকটি বেশি ছবি আঁকতে পারলে ভালো হতো।
নাটুরাজ সজল নামে আরেক চিত্রশিল্পী বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মোটামুটি ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন ৮-১০ টা ছবির অর্ডার পান বলে তিনি জানান।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে