নতুন নোট পাওয়ার দিনক্ষণ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফ্রেশ নোট বিনিময় স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ বঙ্গবন্ধুর ছবি বা প্রতিকৃতি সংবলিত নোট তারা আর ইস্যু করতে চায় না। এই সিদ্ধান্ত গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। সঙ্গতিপূর্ণ হলেও এবার ঈদে জনগণ নতুন নোট থেকে বঞ্চিত হলো, যা গণঅভ্যুত্থানের নতুন স্পিরিটের সঙ্গে আবার সঙ্গতিহীন। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা প্রতিদিন নতুন নোটের জন্য চাহিদা দিচ্ছে, তাদের ধারণা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরাতন কর্মী হিসেবে আমার পক্ষে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু ফ্রেশ নোট বের করা সম্ভব। যারা গণঅভ্যুত্থানের অকৃত্রিম সমর্থক তারাও ফ্রেশ নোট চায়, বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট হলেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। ফ্রেশ নোটের বিরাট চাহিদা চট্টগ্রামবাসীর, ফ্রেশ নোট না পেলে তাদের ঈদ অপূর্ণ থেকে যাবে, নতুন নোট তাদের কাছে মেজবানের মতো। ঈদে সেলামি দেয়া-নেয়ায় রীতিতে পুরাতন ও জরাজীর্ণ নোট একেবারেই অনুপযোগী ও অগ্রহণযোগ্য। ফ্রেশ নোট না থাকায় এবার শিশুরা সেলামি থেকেও হয়তো বঞ্চিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কারণে এবার ঈদ উৎসবে ফ্রেশ নোটে লেনদেনের দীর্ঘদিনের লালিত ঐতিহ্যেও ছেদ পড়ল।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংবলিত ফ্রেশ নোট বাজারে না দেয়ার সিদ্ধান্ত অকস্মাৎ নেয়া হয়েছে। নতুন ডিজাইনের নোট ছাপা হওয়ার আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত জনগণকে হতাশ করেছে। বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার নোট বাজারে রয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ নোটের সঙ্গে আরও কিছু ছবিযুক্ত নোট যোগ হলে মহাভারত অশুদ্ধ হতো না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে দেশ ও জাতি অপূরণীয় ক্ষতি থেকেও বেঁচে যেত। বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত শত শত কোটি টাকার কাগজ, কালি এবং টাঁকশালে মুদ্রিত নোট ধ্বংস করার প্রয়োজন হবে- অনুমান করছি কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা মূল্যের আমদানিকৃত কাগজ-কালি ও মুদ্রিত নোট ধ্বংস বা পুড়ে ফেলা হবে। এছাড়াও নতুন ডিজাইনে নোট মুদ্রণের সিদ্ধান্ত বিলম্বে গৃহীত হওয়ায় এখন হয়তো প্রতিটি কাজ প্রচলিত নিয়ম ভেঙে করতে হতে পারে; প্রচলিত নিয়ম না ভাঙলে নোট মুদ্রণ আরও দেরি হবে। তড়িঘড়ি করে বাজারে নোট আনার লক্ষ্যে নিজস্ব খরচে কর্মকর্তাদের অরিজিনেশন প্রস্তুতকারীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক বিদেশে থাকতে হচ্ছে, জলপথে না এনে নোট ছাপানোর কিছু কাগজ বিমানে আনতে হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত নোটের পরিবর্তে নতুন ডিজাইনের নোট এই ঈদে জনগণের হাতে পৌঁছলে ঈদ উৎসব বহু গুণে বেড়ে যেত। বাংলাদেশ ব্যাংক যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থার সৃষ্টি হতো না। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে আগস্ট মাসের প্রথমার্ধে, প্রায় আট মাস পার হতে চলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক তৎপর হলে এই সময়ের মধ্যে নতুন ডিজাইনের নতুন নোট বাজারে আনা সম্ভব ছিল; কিন্তু পারেনি। কেন পারা সম্ভব হয়নি, কবে পাওয়া যাবে নতুন ডিজাইনের নতুন নোট- এক সাক্ষাৎকারে তার উত্তর দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে নতুন ডিজাইনের নতুন নোট বাজারে না আসার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিলম্বে নেয়া সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন অর্থ উপদেষ্টা। আগস্ট মাসেই উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। নতুন ডিজাইনের নোট মুদ্রণে নানা পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন হয়। নোটের ডিজাইন করা ও অনুমোদনের নিমিত্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটি আছে, যেখানে দেশের প্রখ্যাত আর্টিস্টরা সদস্য। তবে নোট ডিজাইনে আর্ট কলেজ থেকে পাস করা আর্টিস্টদের সম্যক জ্ঞান থাকে না। কারণ নকল রোধে নোটে অনেক ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের সংযোজন করতে হয় এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অবস্থান ও ডিজাইনের বিন্যাসে সমন্বয় সাধন অপরিহার্য। এ জন্য অনেক দেশ বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে নোটের ডিজাইন করিয়ে নেয়।
আমাদের নোট মুদ্রণের প্রেস, দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন বা টাঁকশালের নোটের ডিজাইন করার ক্ষেত্রে কিছুটা অভিজ্ঞতা ও ধারণা আছে। এই ধারণা থাকার কারণে আমাদের দেশে মুদ্রিত সব নোটের প্রাথমিক ডিজাইন টাঁকশাল থেকেই হয়েছে যা ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটি কর্তৃক কয়েকবার সংশোধনের পর সরকার প্রধানের সম্মতির ভিত্তিতে অরিজিনেশন কাজের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। ডিজাইনের মাস্টার প্লেট করার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই; অবশ্য থাকার দরকারও নেই, দলীয় সরকারের পরিবর্তন না হলে নোটের ডিজাইন পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। একটি প্রিপ্রেস করতে প্রায় দুইশ কোটি টাকার আবশ্যক হয়। অন্যদিকে সব নোটের একবার অরিজিনেশন করতে ৫-৬ কোটি টাকার বেশি খরচ হয় না।
নয়টি মূল্যমানের নয়টি নোটের অরিজিনেশন করার জন্য দুই ভাগ করে ইংল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের দুটি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। কাজের গতি দ্রুত করার নিমিত্তে টাঁকশাল ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টেকনিকেল ও নন-টেকনিকেল কর্মকর্তারা বারবার বিদেশে যাচ্ছেন। অরিজিনেশন ওয়ার্কের মাধ্যমে যে মাস্টার প্লেট তৈরি করে বিদেশ থেকে আনা হয় সেই ‘মাস্টার প্লেট’ থেকেই টাঁকশাল নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে নোট মুদ্রণের মেশিন উপযোগী প্লেট তৈরি করে। জরুরি বিধায় এবার সম্ভবত মেশিনে ব্যবহার উপযোগী প্লেটও বিদেশ থেকে আনা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে নতুন নোট মুদ্রণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করেছে; স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে জানা যায়, মার্চের মধ্যে নতুন ডিজাইনের নোট ইস্যু করার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত ছিল, পরে তা প্রথমে এপ্রিল, পরে আবার মে মাসে বাজারে আনার কথা বলা হচ্ছে। তবে নতুন ডিজাইনের নোট এপ্রিলের শেষ দিকে আসবে বলে গভর্নর পুনরায় উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এপ্রিল মাসে নতুন ডিজাইনের নোট ইস্যু করতে পারবে বলে মনে হয় না; পারলেও উচ্চ মূল্যমানের নোট পারবে না। যে সব নোটে ইন্টাগ্লিও কালি ব্যবহৃত হয় না, যেমন- ২, ৫, ১০ ও ২০ টাকার নোট মুদ্রণ সম্ভব হতে পারে। এই মূল্যমানের নোট শুধু ড্রাই অফসেট কালি দিয়ে ছাপা হয়, এই নোটগুলোর অরিজেশন ওয়ার্কও তত জটিল নয়। ৫০ টাকা মূল্যমানের নোটে এক পৃষ্ঠে এবং ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটে উভয় পৃষ্ঠে ইন্টাগ্লিও কালির মুদ্রণ হয়। ইন্টাগ্লিও সমৃদ্ধ ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার একটি নোটশিট ৫টি মেশিনে ৫ বার মুদ্রণ করতে হয়, অর্থাৎ একটি নোট ৫টি মেশিনে ছাপা হয়। প্রথম তিনটি মুদ্রণে প্রত্যেকবার মুদ্রণের পর কমপক্ষে ৫ দিন যাবৎ শুকাতে হয়, না শুকানো পর্যন্ত পরবর্তী মুদ্রণ করা যায় না। একটি মেশিন থেকে আরেকটি মেশিনে অসম্পূর্ণ মুদ্রিত শিট হস্তান্তরে গণনা করা বাধ্যতামূলক। তবে তা দ্রুতগতির মেশিনে করা হয়। মুদ্রণ ও শুকানো সম্পন্ন হলে ম্যানুয়ালি প্রতিটি মুদ্রিত শিট পরীক্ষা করা হয়, পরীক্ষান্তে মুদ্রিত শিটগুলো নোটের আকারে কাটা হয়, কাটা নোটগুলো ১০০ পিসের প্যাকেট করা হয়, প্যাকেটগুলো নমুনা ভিত্তিতে আবার পরীক্ষা করা হয়, পরীক্ষার পর দশটি প্যাকেটের একটি বান্ডিল করা হয়। উল্লেখ্য, নোটের স্টেশন পরিবর্তন হলেই গণনা অপরিহার্য, অর্থাৎ একটি নোট দশবারেরও বেশি গণনা করা হয়। সর্বশেষে বাক্সবন্দি করে ভল্টে সংরক্ষণ করা হয়।
নোট মুদ্রণ ও বাক্সবন্দির যে পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার কথা বলা হলো তা সম্ভব হবে যদি নোটের সংশ্লিষ্ট কাগজ, কালি ও প্লেট টাঁকশালের হাতে থাকে। জানা যায়, কোনোটাই এখনো বিদেশ থেকে তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। অরিজিনেশন ওয়ার্ক বা প্লেট তৈরির অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই, হয়তো এপ্রিল মাসের মধ্যে পেয়ে যাবে। কাগজ ও কালির কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে; কিন্তু কাগজ বা কালির নমুনা টাঁকশাল এপ্রিলের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে পেতে পারে। নমুনা কাগজ টাঁকশালের মেশিনে পরীক্ষণের নিমিত্তে মুদ্রণ হবে এবং এছাড়াও নমুনা কাগজের আরও প্রায় ২০টি বিষয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা হবে। এই সব পরীক্ষায় কমপক্ষে ১০ দিন সময় লাগবে। পরীক্ষায় গ্রহণযোগ্য না হলে আবার নতুন নমুনা প্রস্তুতকারক থেকে সংগ্রহ করা হবে। নমুনা পুনরায় তৈরি করতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগবে। তবে নোটের কাগজ সাধারণত প্রথমবারেই গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়। জরুরি বিবেচনায় এবার নমুনা কাগজের সামান্য বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নমুনা গ্রহণযোগ্য হলে এলসি খোলা হবে এবং কাগজ উৎপাদন করে সরবরাহের জন্য কমপক্ষে এক মাস সময় দেয়া হবে। এবার জরুরি বিবেচনায় সম্ভবত কিছু কাগজ বিমানে আনা হতে পারে। চূড়ান্তভাবে উৎপাদিত কাগজ টাঁকশালে আসার পর আবার ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা হবে, জরুরি বিবেচনায় এই পরীক্ষা কর্তৃপক্ষ বাতিলও করতে পারেন।
ইন্টাগ্লিও কালির ক্ষেত্রেও কাগজের মতো একই প্রক্রিয়া-পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। সম্ভবত কালির কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। কার্যাদেশ দেয়া হলে কালির প্রস্তুতকারক কালির বিভিন্ন শেডের নমুনা প্রেরণ করবে। শেডের নমুনা দিয়ে নোটের কালারের সঙ্গে ম্যাচ করে কালি তৈরি করা হবে। এর জন্য কালির প্রস্তুতকারক টাঁকশালে তাদের টেকনিকেল লোক পাঠায়। এবার যারা অরিজিনেশন করবে তারাই প্রিন্টেড নমুনা তৈরি করবে, এই নমুনা তৈরির সময়েই কালার ম্যাচিং হতে পারে, নতুবা সময় বাঁচানোর জন্য টাঁকশালের ল্যাবরেটরির লোকও এই ম্যাচিংয়ের কাজ করতে পারে, কিন্তু এই ঝুঁকি তাদের নেয়া হয়তো ঠিক হবে না। কারণ ম্যাচিং কালির নমুনার ভিত্তিতে কালি প্রস্তুতকারক কয়েক টন কালি তৈরি করে বিমানে পাঠাবে, টাঁকশালের ম্যাচিং ফর্মূলায় প্রস্তুতকৃত কালিতে কোনো সমস্যা হলে প্রস্তুতকারক দায় নিতে চাইবে না।
উৎপাদনের সব উপকরণ থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন মূল্যমানের নোট টাঁকশালের পক্ষে একই সময়ে উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। কারণ ১৯৮১ সালে তৈরি মেশিন এখনো টাঁকশাল ব্যবহার করছে, ৪৪ বছর ধরে এই মেশিনগুলো রাতদিন ২৪ ঘণ্টা চলছে। তাই এগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ২০১৬ সালে আরেকটি উৎপাদন লাইনের মেশিন কেনা হয়েছে। একই সময়ে কয়েকটি মূল্যমানের নোট একযোগে মুদ্রণ করা সম্ভব হয় না বিধায় একটি মূল্যমানের নোট মুদ্রণের পর আরেকটি মূল্যমানের নোট মুদ্রণ শুরু করতে হয়। ফলে কমপক্ষে কয়েকটি মূল্যমানের নোটের মুদ্রণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অফিসে তা পাঠানো হয় না। টাঁকশালের সব স্টেশন রাতদিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করে সর্বোচ্চ দৈনিক ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ পিস নোট উৎপাদন করতে সমর্থ। এই অবস্থায় ঢাকার অধিবাসী যে সময় নতুন নোট পাবেন, তার বহুদিন পর অন্য এলাকার জনগণ নতুন টাকা হাতে পাবে। কোনো কারণে নোট মুদ্রণ ব্যাহত হলে বা কাঁচামাল সংগ্রহ বিলম্বিত হলে দেশে নোটের ক্রাইসিস তৈরি হতে পারে, কারণ পুনঃপ্রচলনযোগ্য উদ্বৃত্ত নোট বগুড়া এবং রংপুর অফিস ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের আর কোনো অফিসে সচরাচর থাকে না। পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোটের ক্রাইসিস হলে প্রচলনের অযোগ্য নোট ইস্যু করার পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
এসব বিবেচনায় মনে হচ্ছে, এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক নতুন নোট ইস্যু করতে পারবে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে জুন বা জুলাইয়ের আগে জনগণ নতুন ডিজাইনের উচ্চ মূল্যমানের নোট হাতে পাবে না। জরুরি বিবেচনায় অবলম্বিত প্রক্রিয়া-পদ্ধতিতে শর্টকাট কিছু করে বিড়ম্বনা ডেকে আনা ঠিক হবে না। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ইমেজ কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
জিয়াউদ্দীন আহমেদ: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে