রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘের বার্তা যেন অব্যাহত থাকে
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন, এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার (১৪ মার্চ) তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ‘আমি এই পবিত্র রমজান মাসে সংহতির লক্ষ্যে কক্সবাজারে এসেছি। এই সংহতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে এবং বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যারা রোহিঙ্গাদের এত উদারভাবে আশ্রয় দিয়েছে। আমি এখানে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার ওপর বিশ্বব্যাপী আলোকপাত করতে এসেছি, সেইসঙ্গে তাদের সম্ভাবনার কথাও বলছি। এখানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিশ্বের সমর্থন প্রয়োজন।’
সর্বশেষ ২০১৮ সালেও জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে এরকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাতেও রোহিঙ্গা সংকট দূর হয়নি; বরং সংকট কিছু বেড়েছে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে এখনো অস্থিরতা বেড়েছে এবং আরও প্রচুরসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের ওপর রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে আছে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতি বছর আনুমানিক ৩০ হাজার নতুন শিশু জন্মগ্রহণ করে থাকে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনকূটনীতি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম।
বিভিন্ন দেশের মানবিক সহায়তা কমিয়ে দেয়ায় রোহিঙ্গারা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে আছে। রোহিঙ্গাদের খাদ্য রেশনের পরিমাণ আরও কমিয়ে আনার ঝুঁকিতে আছে। আন্তোনিও গুতেরেস এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলেন, ‘এ ধরনের দুর্যোগ আমরা প্রত্যাশা করি না। কারণ, মানুষের দুর্ভোগ হবে এবং মারাও যেতে পারে।’ জাতিসংঘের মহাসচিবের বার্তায় ও তৎপরতায় হয়তো মানবিক সহায়তা কিছু বাড়বে, কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট কি স্থায়ীভাবে সমাধান হবে?
সমাধানের একমাত্র পথ তাদের স্বদেশে ফেরত যাওয়া; কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের অস্থিরতা দূর না হলে তো তা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মহাসচিব স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে, আন্তোনিও গুতেরেসের পাশে বসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘রোহিঙ্গারা যেন আগামী বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তাদের নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জাতিসংঘের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।’
প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়ন হবে তাই এখন দেখার বিষয়। রোহিঙ্গা ইস্যুটি এখন আমাদের জাতীয় সমস্যা না ভেবে আন্তর্জাতিক সমস্যায় রূপ দিতে হবে। যেভাবেই হোক রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা জানি জাতিসংঘের মহাসচিবের অনেক কথাই বড় দেশগুলো কানে তোলে না। তারপরও জাতিসংঘের মহাসচিবের এবারের অঙ্গীকার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তিনি বলেছেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের পাশে না দাঁড়ায়, আমি এই ইস্যুতে কথা বলেই যাব।
আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব। বাংলাদেশের মানুষের জমি, বন, সম্পদ রোহিঙ্গাদের জন্য উৎসর্গ করে দেওয়ার কৃতিত্ব তাদের দিতেই হবে।’ যতক্ষণ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফেরত না যায় তাদের মানবিক সহায়তা বাড়ানোর পেছনেও আন্তর্জাতিক মহলকে আরও সোচ্চার হতে হবে। আমরা চাই রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘের বার্তা যেন অব্যাহত থাকে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে